সময়ের বিমূর্ত ক্যানভাসে আমি এক স্থবির জ্যামিতি,
যেখানে প্রতীক্ষার প্রহরগুলো মহাকালের মতো দীর্ঘ আর ধূসর।
চোখের তারায় এখন আর চঞ্চল আশার প্রদীপ জ্বলে না,
বরং সেখানে বাসা বেঁধেছে এক অতলান্তিক ক্লান্তি আর নিরাসক্তি।
বিচ্ছেদের পর থেকে আমি আসলে সময়ের কোনো ঘড়ি মানি না,
আমার কাছে প্রতিটি মুহূর্ত এখন এক একটি অনন্তকালের সমান।
ক্ষয়ে যাওয়া ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে আমি দেখি ছায়ার দীর্ঘায়ন,
যেন আমার একাকীত্বটাই চারদিকের অন্ধকারে ডালপালা মেলছে।
বাতাসে এখন আর কোনো পরিচিত সুবাস ভাসে না,
সেখানে কেবল বিদীর্ণ হৃদয়ের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস আর স্তব্ধতা।
অপেক্ষা কি তবে আত্মার এক প্রকার স্বেচ্ছানির্বাসন?
নাকি কোনো অলীক মরীচিকার পিছে ছুটে চলা
এক ক্লান্ত পরিব্রাজকের ভবঘুরেপনা?
পায়ের নিচে মাটিগুলো পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে,
কিন্তু আমার অপেক্ষার অবসান আজও কোনো দিগন্ত খুঁজে পায়নি।
শহরের শেষ ট্রামটাও তার গন্তব্যে ফিরে গেছে অনেক আগে,
কেবল আমি এই শূন্য স্টেশনে বসে আছি এক অপার্থিব মৌনতায়।
স্মৃতির অলিগলিতে এখন আর পদশব্দ শোনা যায় না,
সেখানে কেবল জমে আছে একরাশ বিস্মৃতি আর ধুলোমাখা নৈঃশব্দ্য।
এখন প্রহর শেষ হওয়ার উপক্রম, দিগন্তে ফুটে উঠছে বিষাদ সিন্ধুর আভা,
হয়তো এই অপেক্ষার কোনো প্রাপ্তি নেই, কোনো সার্থকতা নেই।
তবুও এই নিঃশেষিত প্রহরে দাঁড়িয়ে আমি নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করি—
ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি কি তবে কেবলই ছিল এক মায়াবী কুহক?
অপেক্ষার এই শেষ প্রহরটি আসলে কোনো মিলনান্তক সমাপ্তি নয়,
বরং এটি একটি জীবনের ধীরলয়ে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষণ্ণ ঘোষণা।
0 মন্তব্যসমূহ