নিকোটিনে পোড়া সময়

ফুসফুসের গহ্বরে যখন কার্বনের জমাট অন্ধকার দানা বাঁধে, ঠিক তখনই হৃদপিণ্ডের অলিন্দে তোমার নামটা আরও তীব্র হয়ে বাজে। প্রতিটা টানে আমি পুড়িয়ে ফেলি একেকটি পঞ্জিকার পাতা, অথচ ছাইদানিতে জমে থাকে কেবল আমার অস্তিত্বের অবশিষ্টাংশ। ধোঁয়ার কুণ্ডলীগুলো যখন সিলিং ছুঁয়ে শূন্যতায় বিলীন হয়, আমি দেখি সেখানে আমাদের ফেলে আসা বিকেলের বিমূর্ত মানচিত্র। সময় এখানে থমকে গেছে কোনো এক বিষণ্ণ মহাকাব্যের মতো, নিকোটিনের তিক্ততায় আমি আসলে তোমার দেওয়া দহনটাই পান করি। আগুনটা যখন ফিল্টারের কাছাকাছি আসে, আঙুলে লাগে মৃদু এক দহন— ঠিক যেমনি তোমার স্মৃতিরা পোড়ায় অকারণ। অস্তিত্বের এই দহনক্রিয়ায় আমি এক নিভৃত অংশীদার, যেখানে ধোঁয়া আর কুয়াশার মাঝে পার্থক্য খোঁজা বড্ড কঠিন। শহরের এই নিস্তব্ধ প্রহরে আমি একাকী এক দাহ্য উপাখ্যান, বাতাসে ওড়া প্রতিটি কণা সাক্ষী দেয় আমার নিরবচ্ছিন্ন ক্ষয়িষ্ণুতার। মানুষ বাঁচে অক্সিজেনে, আর আমি বেঁচে আছি কেবল এই বিষবাষ্পে; কারণ এই বিষাক্ত ধোঁয়াই এখন আমার একমাত্র বিশ্বস্ত সহচর। নিকোটিনে পোড়া এই প্রতিটি সেকেন্ড আসলে আমার এক একটা ছোট মৃত্যু, যা আমাকে মুক্তি দেয় না, বরং আরও গভীরে গেঁথে দেয় তোমার অনুপস্থিতি। স্মৃতির কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দিয়ে আমি আবারও দেশলাই জ্বালাই, যেন আগুনের শিখায় ছাই হয়ে যায় আমার সমস্ত অপ্রাপ্তির ইতিহাস। অথচ পোড়া গন্ধটা যখন নাকে এসে লাগে, বুঝি তা তামাকের নয়— ওটা আসলে আমার ভেতরে তিলতিল করে পুড়ে যাওয়া এক বসন্তের ঘ্রাণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ